Contact For Ad - 01622274693

Contact for Ad - 01622274693Header ADS

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাসে সব থেকে বড় অঘটনগুলো।




আপনি কি বিশ্বাস করতে পারছেন? চ্যাম্পিয়নস লীগের এই মৌসুমে নকআউট স্টেজে আমরা সাতটা রুপকথার স্বাক্ষী হলাম। ফুটবল প্রেমীদের কাছে বেঁচে থাকার জন্য এর চেয়ে আর সেরা সময় হতেই পারে না! চ্যাম্পিয়নস লীগ তার ইতিহাসে এতগুলো ফিরে আসার গল্প আগে কখোনই দেখেনি।

টটেনহাম ৩-৩ আয়াক্স

এবারের চ্যাম্পিয়নস লীগে রুপকথার গল্প লেখার শুরু করেছিল এই আয়াক্সই। তবে টটেনহামের আরেক রুপকথার কাছে শেষ পর্যন্ত তাদের হার মানতে হয়েছে। হয়তো চ্যাম্পিয়নস লীগের সেরা গল্পটা এই টটেনহামই লিখেছে। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল মারিসিও পচেত্তিনোর দল। তাই চোট জর্জরিত দল নিয়ে টটেনহাম দ্বিতীয় লেগে আয়াক্সের মাঠে নেমেছিল পিছিয়ে থেকেই। মৌসুমের শুরু থেকেই দারুণ খেলে আসছিল আয়াক্স। দ্বিতীয় লেগে ম্যাচের শুরু থেকেই আয়াক্সের টোটাল ফুটবলের কাছে নাস্তানাবুদ হয় টটেনহাম। সুন্দর ফুটবল খেলার পুরষ্কার ও পায় আয়াক্স৷ হাফটাইমেএ আগেই দুই গোল করে বসে দলটি। তাই আয়াক্সের ফাইনালে যাওয়া ছিল শুধু সময়ের ব্যাপার। তবে পচেত্তিনো বিরতির সময়ে খেলোয়ারদের কি জাদুমন্ত্র করছেন তিনিই ভাল জানেন। দ্বিতীয়ার্ধে সব কিছু যেন পাল্টে গেল। লুকাস মাউরার অসাধারন হ্যাট্রিকে এওয়ে গোলের সুবিধা নিয়া ফাইনালে চলে যায় টটেনহাম। যার মধ্যে টটেনহামের তৃতীয় গোলটি এসেছিল অতিরিক্ত সময় শেষ হবার ঠিক দুই সেকেন্ড আগে যখন ডি লিটরা ছিলেন ফাইনাল থেকে কয়েক সেকেন্ডের দূরত্বে।

লিভারপুল ৪-৩ বার্সেলোনা

ন্যু কাম্পে ভাল খেলেও এক মেসির কাছেই হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। তিন গোলে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের পক্ষে বাজি ধরার লোক ছিলো খুব কমই। তার উপর আবার ছিলোনা দলের আক্রমন ভাগের দুই প্রধান তারকা ফিরমিনো ও মোঃ সালাহ্। তবে হারার আগে হারতে রাজি নয় এই লিভারপুল। "ইউ উইল নেভার ওয়াক এ্যালোন" গানে মুখরিত এ্যানফিল্ডে তাই রুপকথার জন্ম দিতে পেরেছে ক্লপের দল। বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ৪-৩ এগ্রিগেটে তাই টানা দ্বিতীয় বারের মত ফাইনালে পৌছালো লিভারপুল।

আয়াক্স ৩-২ জুভেন্টাস 

এওয়ে গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নেমেছিল জুভেন্টাস। তার উপর আবার প্রথমার্ধে রোনালদোর হেডে ২-১ এগ্রিগেটে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস। এখান থেকে ফিরে আসতে হলে অসাধারণ কিছুই করতে হতো আয়াক্সকে। প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা, তাই কাজটা ছিলো আরও কঠিন। তবে সব শঙ্কা দূরে ঠেলে ম্যাচটা ২-১ এ জিতে নেয় আয়াক্স। ৩-২ এগ্রিগেটে জুভেন্টাসকে বিদায় করে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছিলো আয়াক্স।

জুভেন্টাস ৩-২ এ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ 

প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরেছিল জুভেন্টাস। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে দ্বিতীয় লেগে তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হত জুভেন্টাসকে। তার উপর আবার জুভেন্টাস এর মাঠে এ্যাতলেটিকো এক গোল করলে তার বিপরীতে দুই গোল করতে হতো রোনালদো দের৷ শেষ রোনালদোর হ্যাট্রিকে এ্যাতলেটিকোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যায়গা করে নেয়ার পাশাপাশি অসাধারণ এক ফিরে আসার গল্পের সৃষ্টি করেছিল জুভেন্টাস।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩-৩ পিএসজি

মৌসুমের শুরুর দিকের ফর্ম বিবেচনায় শেষ ষোলোর ড্রয়ের পরে সবাই ভেবেছিলো পিএসজি কাছে এই ইউনাইটেড উড়ে যাবে। এরপর সোলশায়ারের ছোয়ায় যেন রাতারাতি  বদলে গেল ইউনাইটেড। তাই ধারনা করা হচ্ছিল ইউনাইটেডও ছেড়ে কথা বলবে না পিএসজিকে। কিন্তু কিসের কি! ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২-০ গোলে হেরে বসল ইউনাইটেড। এতে অনেকেই চ্যাম্পিয়নস লীগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যাত্রার এখানেই শেষ দেখে ফেলেছিলেন। তবে ফিরতি লেগে রোমেলু লুকাকুর জোড়া গোল ও শেষ মিনিটে র‍্যাশফোর্ডের গোলে প্যারিসে সেদিন এক রুপকথার জন্ম দিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

আয়াক্স ৫-৩ রিয়াল মাদ্রিদ

একদল তার সোনালী সময় অনেক পিছনে ফেলে এসেছেন আরেক দল গত বছরই হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা জিতে গড়েছে এক অনন্য কীর্তি। তাই এই টাইয়ে স্পষ্ট ফেভারিট ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগ শেষে তার প্রমানও পাওয়া যায়। আর্মস্টারডাম থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়েই ফিরেছিল লস ব্লাঙ্কোস'রা। তবে তারুণ্য নির্ভর এই আয়াক্স এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন। বার্নাব্যু তে ম্যাচের শুরু থেকেই টোটাল ফুটবলের পশরা সাজিয়ে বসে আয়াক্স। শেষ পর্যন্ত আয়াক্স ম্যাচটি ৪-১ এ জিতে জন্ম দেয় রুপকথার। এবারের চ্যাম্পিয়নস লীগে রুপকথার গল্প লেখার শুরু তো ওখান থেকেই।

পোর্তো ৪-৩ রোমা

প্রথম লেগে পোর্তো ম্যাচটা হেরেছিল ২-১ গোলে। দ্বিতীয় লেগটা ছিল ঘরের মাঠে। তবে রোমা যদি গোল পেয়ে যেত সেক্ষেত্রে পোর্তোকে পরের রাউন্ডে যেতে হলে দুই গোলের লীড নিয়ে জিততে হত। ঘটলোও তাই। পোর্তোর মাঠে গোল পেয়ে গেল রোমা। নাটকীয় সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের গোলে ৩-১ এ জিতেছিল পোর্তো। তাই ৪-৩ এগ্রিগেটে পোর্তো পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল।

No comments

Theme images by luoman. Powered by Blogger.