Contact For Ad - 01622274693

Contact for Ad - 01622274693Header ADS

লেখকঃ অজয় মন্ডল

জাদুকরী প্লেয়িং স্টাইলের অজানা কাহিনী 



ফুটবল প্রেমীদের কাছে টোটাল ফুটবলের নামটা বেশ পরিচিতই বটে।টোটাল ফুটবলের নাম নিতেই ফুটবল প্রেমীদের সর্বপ্রথম স্যার ইয়োহান ক্রুইফ কথাই মনে পড়েবে!

ইয়োহান ক্রুইফ আমরা ভেবে নিতে পারি উনিই এই চমৎকার প্লেয়িং স্টাইলের আবিষ্কারক।
কিন্তু না, টোটাল ফুটবলের রয়েছে নিজস্ব কিছু ইতিহাস। সেই ইতিহাসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া দরকার টোটাল ফুটবল কী !
টোটাল ফুটবল ব্যাপারটা আসলে খুবই সিম্পল, এই প্লেয়িং স্টাইলে মূলত দলের একজন আউটফিল্ড প্লেয়ার নিজের পজিসন থেকে সরে গেলে অন্য আর একজন আউটফিল্ড প্লেয়ার সে আউটফিল্ড প্লেয়ারের  করবে। সহজ ভাষায় দলের প্রয়োজনে একজন ফরোয়ার্ড একটা মিডফিল্ডারের রোল এমনকি একটা ডিফেন্ডারের রোল প্লে করবে এটাই হচ্ছে মূলত টোটাল ফুটবল। এখানে, কোন ফুটবলার একটা পজিসনে খেলতে নামে না। দলের প্রয়োজনে একটা প্লেয়ার ডিফেন্ডার -মিডফিল্ডার কিংবা ফরোয়ার্ডের ভূমিকা একই ম্যাচে যেকোন সময় পালন করবে এটাই হচ্ছে টোটাল ফুটবল। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, আউটফিল্ড প্লেয়ার আবার কারা? এটা আরো সিম্পল গোলকিপার বাদে মাঠের বাকি ১০ টা প্লেয়ারই হচ্ছে আউটফিল্ড প্লেয়ার। ব্যাপারটা সিম্পল হলেও এই প্লেয়িং স্টাইলে খেলাটা কিন্তু একটু গর্জিয়াস।
টোটাল ফুটবল কি জিনিস তা জানা গেল। এখন আসা যাক টোটাল ফুটবলের ইতিহাসে,
টোটাল ফুটবল ধারনাটি মূলত ডাচ ক্লাব আয়াক্সের সাফল্যের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে সবার কাছে পরিচিতি লাভ পেতে থাকে৷ কিন্তু এই টোটাল ফুটবলের ধারনাটি শুরু হয়েছে ৩০ এর দশকে অস্ট্রিয়ান ক্লাব ওয়ান্ডারটিম থেকেই। পরবর্তীতে ৪০ এর দশকে আবার আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ক্লাব রিভার প্লেটের 'লা মাকুইনা' স্টাইলে এই প্লেয়িং স্টাইল লক্ষ করা গেছে। 'লা মাকুইনা' এর হাত ধরে রিভার প্লেট বেশ কিছু ট্রফিও জিতেছিল। ইংলিশ ক্লাব বার্ণলি এই প্লেয়িং স্টাইল ব্যাবহার করেই ১৯৫৯-৬০ সিজনের ইংলিশ লীগ টাইটেল জয় করে। এমনকি ষাটের দশকে ব্রাজিলীয় ক্লাব সান্তোসের প্লেয়িং স্টাইলেও এই টোটাল ফুটবলের ছাপ দেখা যায়।আয়াক্সের সাফল্য আসতে শুরু করে ইংলিশ কোচ জ্যাক আর্নল্ডের হাত ধরে। টোটাল ফুটবলের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন এই ইংলিশ ভদ্রলোকই। জ্যাক আর্নল্ড পাসিং ফুটবল পছন্দ করতেন। কিন্তু ইংল্যান্ডে তখন চলছে পাওয়ার আর ফিজিক্যাল স্ট্রেংথ বেসড ফুটবল। তাই তিনি একরকম বাধ্য হয়েই পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডে। আয়াক্সকে তিনি মোট ২৭ বছর কোচিং করিয়েছিলেন তিনি। এই ২৭ বছরে আয়াক্স জিতেছিলো ৮টি লীগ আর একটি KNVB কাপ। এগুলোর কোনোটিই এর আগে আয়াক্স জেতেনি। আর্নল্ড দায়িত্ব ছাড়ার পরে ভিক বাকিংহাম আয়াক্সের সাফল্য অব্যাহত রাখেন। জ্যাক আর্নল্ড আয়াক্স ছেড়ে পাড়ি জমান স্বদেশ ইংল্যান্ডে। সেখানে শেফিল্ড ওয়েডনেসডেকে দুই বছর কোচিং করানোর পর ১৯৬৪ সালে আবার ফিরে আসেন এফসি আয়াক্সে। কিন্তু এবার ভাগ্য আর আগের মত সুপ্রসন্ন ছিলো না। নতুন বছরের শুরুতেই আয়াক্সের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের একদম তলায় রেলিগেশান জোনে গিয়ে ঠেকে। টিমকে রেলিগেশান জোনে নিয়ে যাওয়ায় বরখাস্ত হন তৎকালীন আয়াক্সের সফলতম কোচ।
তারপর দায়িত্ব দেয়া হয় আয়াক্সেরই সাবেক স্ট্রাইকার এবং আর্নল্ডের শিষ্য রাইনাস মিশেলসকে। প্লেয়ার হিসেবে মিশেলসের তেমন বড় কোনো নামডাক ছিল না। ডাচ ন্যাশনাল টিমের হয়ে মিশেলস৫ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে কোন গোলই করতে পারেননি, তার ১২ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারেই আয়াক্সের হয়ে প্রায় ২৫০ টির বেশি ম্যাচ খেলে ১২২ গোল করেন এই স্ট্রাইকার। আয়াক্সের দায়িত্ব নেয়ার পরপর জ্যাক আর্নল্ডের মতোই মিশেলস জোর দেন নিয়ম-শৃঙ্খলার উপর। সঙ্গে খেলোয়াড়দেরকে কঠিন পরিশ্রম করার নির্দেশ দেন যাতে তারা মিশেলসের চাহিদা মতো একাগ্রতা এবং আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে আসতে পারে খেলায়। দায়িত্ব নেয়ার পর মিশেলসের প্রাথমিক কাজ ছিলো আয়াক্সকে রেলিগেশান থেকে বাঁচানো। এসেই মিশেলস টিমের ফর্মেশন নিয়ে আসেন ৪-২-৪ এ। পরের সিজনেই লিগ জিতে নেয় আয়াক্স। মিশেলসের অধীনে আয়াক্স টানা ৪ টি লীগ টাইটেল জিতেন। ইউরোপের গন্ডীতে তখনো আয়াক্সের তেমন নাম ডাক ছড়ায়নি। ১৯৬৯ সালে ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে লিভারপুলকে ৫-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে যায় আয়াক্স। ফাইনালে এসি মিলানের কাছে হেরে গেলেও তখন তারা পরিচিত পায় তাদের অ্যাটাকিং ব্র্যান্ডেড ফুটবলের জন্য, ইউরোপে নাম ছড়িয়ে পড়ে আয়াক্সের।
একটু পিছনে যাই, ভেলিবর ভাসোভিককে পারটিজান বেলগ্রেড থেকে সাইনিংয়ের মাধ্যমে ইউরোপ শাসনের দিকে একধাপ এগিয়ে যায় আয়াক্স। টিমকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য মিশেল ছিলেন বদ্ধপরিকর। এতটাই বদ্ধপরিকর যে, ১৯৬৬ সালে ইউরোপিয়ান কাপে ডুকলা প্রাগের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করার জন্য তখনকার আয়াক্স ক্যাপ্টেনকেই বেচে দেয় আরেক ডাচ ক্লাব পিএসভির কাছে। তার জায়গাতেই দলে আসেন ভাসোভিক। মিশেল তখন আয়াক্সকে খেলাচ্ছেন টোটাল ফুটবল। তার সিস্টেম ছিলো একদম কিপার থেকে বিল্ড আপ করা। এজন্য ডিফেন্ডারদেরকে ডিফেন্সের পাশাপাশি পাসিং এবং সামনে এগোনোর দক্ষতাও থাকতে হবে। ঠিক এখানেই বাজিমাত করেন যুগোস্লোভিয়ার এই কম বয়সী ডিফেন্ডার ভাসোভিক।
হাশলফের সাথে জুটি গড়ে ভাসোভিক গড়ে তোলেন দূর্ভেদ্য ডিফেন্স।মিশেলস তার টিমের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ন প্লেয়ারদেরকেই বেচে দিয়ে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সাইনিং করায়।তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ছিল মিডফিল্ড জেনারেল জোহান নেসকেন্সকে সাইন করানো।
মিশেলস তার ৪-২-৪ ফর্মেশন বদলে নিয়ে আসেন ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। মিডফিল্ডে ৩ জন নামানোর ফলে খেলা আরো কন্ট্রোলে আসে। আবার, উইংগার এবং স্ট্রাইকারদের মধ্যে একজন নিচে নেমে আসায় আয়াক্স মিডফিল্ডে প্রায় সকল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই আধিপত্য বিস্তার করতে পারত।
মিশেলস আয়াক্সকে খেলান এক নতুন সিস্টেমে। এই সিস্টেমে সব প্লেয়ারই অ্যাটাকার আবার ডিফেন্ডার। আয়াক্স এক অ্যাগ্রেসিভ সিস্টেম ফলো করতো। এই সিস্টেমে উইংগাররা কভার দিতো ফুলব্যাকদের, উইংগাররা আবার মিডলে ড্রিফট করে স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতো। প্রেসিং বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হলেও তখনকার দিনে প্রেসিং সেভাবে প্রচলিত ছিলো না। আয়াক্স সেটিকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য উচ্চতায়। প্রতিপক্ষ বল নেয়ার সাথে সাথে আয়াক্সের প্লেয়াররা প্রায় সকলেই একসাথে ঘিরে ধরতো আর বল কেড়ে নিতো অনায়াসেই। ফলে আয়াক্সের বিপক্ষে খেলা হয়ে উঠেছিলো এক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মিশেলের দর্শন ছিলো পাস এবং কুইক মুভমেন্ট। আয়াক্সের প্রত্যেক প্লেয়ারদেরই ছিল অসাধারন পাসিং এবিলিটি। তখন মিশেলস গোলকিপারকে দলে নিতেন হাত দিয়ে ভাল সেভ করার জন্য নয়, বরং পা দিয়ে ভালো পাস দেয়ার জন্য! তখনকার আয়াক্স ছিলো যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে অর্থাৎ অনেক আধুনিক।
আয়াক্স টিমের সবচেয়ে বড় ফুটবলার ছিল ক্রুইফ। হ্যা আগেই বলেছিলাম স্যার ইয়োহান ক্রুইফের কথা। টোটাল ফুটবলে সবচেয়ে পারদর্শী প্লেয়ার ছিলেন এই লিজেন্ড। টোটাল ফুটবলে ক্রুইফ কোচ এবং প্লেয়ার হিসেবে সেরাদের সেরা ছিলেন ক্রুইফ। যাই হোক, ক্রুইফ ছিলেন স্কিলফুল ড্রিফটিং সেন্টার ফরোয়ার্ড, জোহান নেসকেন্স ছিলেন মিডফিল্ডের এক শক্ত সমর্থ্য জেনারেল, আরি হান ও জেরি মুহরেনের ছিলো ট্যাক্টিকাল ডিসিপ্লিন, আর এদের পিছনে ছিলেন যুগোস্লোভিয়ান স্টিল ভাসিভোক। এই নিয়ে ছিলো আয়াক্সের টোটাল ফুটবল।
১৯৭১ সালেই আয়াক্স তাদের ইতিহাসের ১ম ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেয়। তার পরেই মিশেলস আয়াক্সকে বিদায় জানিয়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাতে পাড়ি জমান।বিদায় জানানোর কারন ছিল আয়াক্সের হয়ে সবকিছু জয় করা।
মিশেল যে ভুল ছিলেন, তা প্রমাণ হয়ে যায় কিছুদিন পরেই। মিশেলের স্থলাভিষিক্ত হন স্টেফান কোভাক। কোভাকের প্লেয়িং স্টাইল মিশেলের চেয়ে কিছুটা কম অ্যাগ্রেসিভ ছিলো। এতে অবশ্য প্লেয়াররা একটু বিরতি পান মিশেলের হার্ড ওয়ার্কিং সিস্টেম থেকে। প্রথম সিজনেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপসহ ঐতিহাসিক ট্রেবল জিতে নেয় আয়াক্স। ট্রেবল জেতার পরও কোভাককে বরখাস্ত করার চিন্তাভাবনা করে আয়াক্স ম্যানেজমেন্ট। তাদের ভাষ্যমতে কোভাক প্লেয়ারদেরকে অনেক বেশী স্বাধীনতা দিতেন, তার সিস্টেম ছিলো সফ্ট। কিন্তু প্লেয়ারদের প্রতিবাদের মুখে আয়াক্স ম্যানেজেমেন্ট তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়। প্লেয়ারদের আস্থার প্রতিদান পরের সিজনেই ফিরিয়ে দেন কোভাক। টানা তৃতীয়বারের মতো রিয়াল মাদ্রিদের পর ২য় ক্লাব হিসেবে ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেয় এফসি আয়াক্স।কোভাকের প্রতি অনেকের অভিযোগ ছিলো তিনি প্লেয়ারদেরকে অনেক বেশী স্বাধীনতা দেন। ইউরোপিয়ান কাপ জেতার পরে কোভাক নিজেই এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সসম্মানে আয়াক্স ছেড়ে ফ্রান্সের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোভাকের জায়গা নিতে আসেন জর্জ নোবেল। নোবেল এসেই প্লেয়ারদের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেন দলের ক্যাপ্টেন নির্বাচন করার। যদিও ক্রুইফ ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা এবং আয়াক্সের ইঞ্জিন, কিন্তু বয়স একটু বেড়ে যাওয়ায় টিমে তার প্রভাব একটু কমে এসেছিলো। ফলে টিমমেটরা তার বদলে পিট কাইজারকে ক্যাপ্টেন হিসেবে নির্বাচিত করে। ক্যাপ্টেন্সি হারিয়ে ক্ষোভে গুরু মিশেলের পথ ধরে ক্রুইফও পাড়ি জমান কাতালান ক্লাব বার্সেলোনাতে। খারাপ ফলাফলের ফলেই পরের সিজনেই বরখাস্ত হন নোবেল, যাওয়ার আগে প্লেয়ারদের নারীপ্রীতি এবং অ্যালকোহলকেই দায়ী করেন তিনি। পরবর্তীতে মিশেলস ক্রুইফ উভয়েই আয়াক্সে পুনরায় আসেন। কিন্তু তাদের ইতিহাসের সেই জাদুকরী অধ্যায় হারিয়ে ফেলে। আয়াক্সের সেই সময়ের খেলা টেলিভিশনে দেখার জন্যে আয়াক্সের অনেক ফুটবল ফ্যানরাই মাইলের পর মাইল হেটে যেতেন জাদুকরী ফুটবল দেখতে এরকম নজিরও রয়েছে। তারা ফ্যানসদের কাছে কোন হিরো থেকে কম ছিল না।
পরবর্তীতে স্যার রাইনাস মিশেলসকে ফিফা ১৯৯৯ সালে কোচ অব দ্য সেঞ্চুরি হিসেবে পুরস্কৃত করেন এবং টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।অনেক ক্ষেত্রে তাকে গ্রেটেস্ট কোচ অব অল টাইম বলেও উল্লেখ করা হয়। আর ‍, স্যার ইয়োহান ক্রুইফ এই টোটাল ফুটবলকে আরো ঘষা মাজা করে টিকিটাকা রুপে বার্সায় খেলিয়ে বার্সাকে ১ম ইউরোপিয়ান কাপ এনে দেন। গার্ডিওয়ালা সেই টিকিটাকা ব্যাবহার করেই বার্সার ইতিহাসের সফলতম কোচ হন।
ওহ, আচ্ছা আয়াক্সের কি হল?
আয়াক্সের সোনালী অতীত আর ফিরে আসেনি। ইউরোপীয়ান কাপ যা এখন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে রুপ নিল সেখানে আয়াক্সের কোন দাপট নেই। এক সময় ইউরোপীয় ফুটবলের রাজত্ব করা আয়াক্স হারিয়ে গেল অসীমে।
আয়াক্সের ফুটবল ইতিহাসে সেই জাদুকরী অধ্যায় অনেক রূপকথাকেও হার মানায়। হয়ত আবারো কোন একদিন মিশেলস-ক্রুইফ জুটি আয়াক্সে আসবে আবারো নতুন জাদুকরী অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
কিন্ত কবে
এই উত্তরের আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আয়াক্সের হাজারো ফুটবল ভক্ত..............

No comments

Theme images by luoman. Powered by Blogger.